অন্যদিকে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সীমিত বিজ্ঞাপনের বাজারেও অনেক চ্যানেল লাভজনক হয়েছে নানা পরিকল্পনায়। সেখানে গত ১১ মাসে (চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত) করসহ বিটিভির মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
জাতীয় সংসদে গতকাল নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিটিভির আয়-ব্যয়ের এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
টেলিভিশন চ্যানেল-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে ৫৫টি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনের মধ্যে ৩৯টি বর্তমানে সম্প্রচারে রয়েছে। সম্প্রচারিত অধিকাংশ টেলিভিশনের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলেও গত কয়েক বছরে এ ব্যবধান সাধারণত দ্বিগুণের বেশি নয়। বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিটিভিতে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় ৩২ গুণ।
জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গতকাল বিটিভির ছয় অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরেন। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে করসহ আয় করেছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। চলতি বছরে বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখার রাজস্ব আয় ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা।
শুধু চলতি অর্থবছরই নয়, বিটিভির ক্ষেত্রেও আগের কয়েক অর্থবছরে একই ধরনের আর্থিক চিত্র দেখা গেছে। জাতীয় সংসদে মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার ও ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ছিল ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ও ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ছিল ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ও ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় ছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার ও ব্যয় ছিল ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ও ব্যয় ছিল ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসরকারি টেলিভিশন খাত মূলত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি সময়ে বিজ্ঞাপন থেকে আয় ৩০-৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বর্তমানে দেশে অফপিক আওয়ারে বিজ্ঞাপনের হার মিনিটে দেড়-দুই হাজার টাকা। আর পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ ৫-৮ হাজার টাকা। চ্যানেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের হারও কমে গিয়েছে। ফলে লোকসানে পড়ছেন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।
অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) এক দায়িত্বশীল সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিচালিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মাসিক ব্যয় গড়ে ৩ থেকে ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে চার-পাঁচটি চ্যানেল ছাড়া অধিকাংশ টেলিভিশনের মাসিক আয় প্রায় ১ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। চার-পাঁচটি চ্যানেল বর্তমানে খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখছে। আর দু-একটি চ্যানেলের আয়-ব্যয়ে প্রায় সমান অবস্থায় রয়েছে।’